• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে ভেজাল ওষুধ তৈরীর মূলহোতার বাড়ি পাবনায়

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে তৈরী ভেজাল ওষুধ দেশের বিভিন্ন শহরের ফার্মেসীতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ শহরেই গড়ে ওঠা কোম্পানিতে স্কয়ার, অপসোনিন, ইনসেপ্টার মতো জনপ্রিয় কোম্পানির ওষুধ নকল করে বাজারজাত হচ্ছে। আর এসব ওষুধ প্রত্যন্ত এই উপজেলা শহর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে চলে যাচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে।

গত মঙ্গলবার এমন ভেজাল ওষুধসহ বাজারজাতকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন মতিঝিল বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুণ অর রশীদ বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মতিঝিল ডিআইটি এক্সটেনশন রোডের হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনালের সামনে মো. ইকবাল হোসেন ওরফে রানাকে ভেজাল ওষুধের কার্টুনসহ আটক করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসএ পরিবহন ইংলিশ রোড শাখা থেকে আরো দুই কার্টুন ও কুমিল্লা শহরের স্টেশন রোড থেকে রানার ভাড়া করা গোডাউন থেকে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ২ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ পিচ ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রানা জানায়, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের মো. আতিয়ার রহমানের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের পার্সেলের মাধ্যমে এসব ওষুধ সংগ্রহ করে কুমিল্লা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় গোডাউনে সংরক্ষণ করেন তিনি। তারপর সময় ও সুযোগ বুঝে সে নিজেই ও বিভিন্ন পরিবহনে পার্সেলের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব ভেজাল ওষুধ বাজারজাত করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনা জেলার হেমায়েতপুরের সাধুপাড়ার মৃত শামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে আতিয়ার রহমান। ২০১০ সালে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশেই গড়ে তোলে এ আর ফুড ডিভিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তৈরী করা হয় টেস্টি স্যালাইন, আম-তেঁতুলের হজমী ট্যাবলেট, কফ-কাশি লজেন্স।

এরপর ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত করে রেক্সটন ল্যাবরেটরিজ নামে একটি ওষুধের কারখানা। এখানে তৈরী হয় যৌন উত্তেজক বিভিন্ন ট্যাবলেট-সিরাপসহ প্রায় ৭ প্রকারের ওষুধ। পাশাপাশি শহরের গোপনীয় স্থানে কারখানা গড়ে তোলে নামিদামি কোম্পানির নকল ও ভেজাল ওষুধ তৈরী করে। নকল ওষুধ তৈরীর অভিযোগে আতিয়ার রহমান একাধিক বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।

সৈয়দপুর শহরে স্বাস্থ্য বিষয়ক নিয়ে কাজ করা একটি এনজিওতে চাকুরী করেন বাবুল হোসেন। তিনি জানান, অনেক ফার্মেসির মালিক জেনেশুনেই রোগীর হাতে তুলে দিচ্ছেন এসব ভেজাল ওষুধ। এ নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মাঝে মাঝে কিছু অভিযান ছাড়া খুব একটা দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। যে কোনো ওষুধ বাজারজাত করার আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে বাজারজাত করতে হয়। কিন্তু একবার বাজারজাত করার পর সেই ওষুধের গুণগত মান নিয়ে আর কোনো তদারকি হয় না। এই সুযোগেও অনেক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ওষুধের মান কমিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

শহরের শেরে বাংলা রোডের ওষুধ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দেশের শীর্ষ ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেফ-৩। এর বাজার মূল্য প্রতি পিস ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু ফার্মেসীগুলো নকল এ ওষুধটির ১৪টি ট্যাবলেটের এক প্যাকেট ক্রয়ই করছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এছাড়া ২-৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে ১১ টাকা মূল্যের নকল ন্যাপ্রোক্সেন ট্যাবলেট এবং তিন টাকায় বিক্রি করছে ১৬ টাকা মূল্যের একমি ল্যাবরেটরিসের মোনাস-১০ ট্যাবলেট। স্কয়ার ফার্মার সেকলো-২০, ফিলওয়েল, নিউরোবি, ক্যালবোডি, ইনসেপ্টা ফার্মার প্যানটোনেক্স, মনটেয়ার, রেনাটার ম্যাক্সপ্রো-২০ ট্যাবলেট নকল করে স্থানীয় একটি চক্র স্বল্প দামে বিক্রি করছে।

এ ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তররের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক কাজী ফরহাদ  বলেন, লোকবল সংকটের কারণে সব জায়গায় সবসময় বিষয়টি দেখা সম্ভব হয় না। তবে সৈয়দপুর উপজেলায় খুব শিগগির তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ